মালদা

নির্মল বাংলা প্রকল্পের বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা লুঠ করার অভিযোগ প্রধানের বিরুদ্ধে

অনশন অন্দোলন শুরু করলেন রতুয়া বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক সমর মুখ্যার্জী। ‘নির্মল বাংলা’ করার উদ্যোগ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। আর এই নির্মল বাংলার প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা লুঠ করার অভিযোগ উঠল গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কাজ না করেই কোটি কোটি টাকার দূর্নীতির অভিযোগ মালদার রতুয়া- ১ নম্বর ব্লকের বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের  বিরুদ্ধে। বাস্তবে কাজের হদিশ না মিললেও কাগজে কলমে কাজ হয়েছে কোটি কোটি টাকার। এমন অভিযোগ তোলায় অভিযোগকারীকে প্রানে মারার হুমকী প্রধান রুদনী চৌধুরীর  স্বামী রামলাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। পঞ্চায়েতের এমন নজিরবিহীন দূর্নীতির বিরুদ্ধে রতুয়া ব্লক দপ্তরে অনশনে বসেছেন বিধায়ক সমর মুখ্যার্জী। নির্মল গ্রামের’ দাবিদার বিলাইমারি গ্রামপঞ্চায়েতে ২৬০০ এরও বেশি শৌচাগার নির্মাণ হয়। এমনই দেখানো হয় সরকারী কাগজ কলমে। বাস্তবে একটি শৌচাগারেরও হদিশ মিলেনি। গ্রামবাসীদের এমনই অভিযোগ। শুধুমাত্র শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পে কাজ না করেই গায়েব হয়েছে দুই কোটি আটানব্বই লক্ষ টাকা। অভিযোগ এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটিও পুকুর না থাকলেও পুকুরের ৮৭ টি স্কিমে লুঠ হয়েছে কোটি টাকার উপরে। আরও অভিযোগ স্ট্রিট প্ল্যানটেশনের ক্ষেত্রেও লক্ষ লক্ষ টাকার নয়ছয় অভিযোগ সিপিএম পরিচালিত প্রধান রুদনী চৌধুরীর বিরুদ্ধে। 

        রতুয়া বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক সমর মুখ্যার্জী বলেন, রতুয়া- ১ নম্বর ব্লককে  ‘নির্মল গ্রাম’ ঘোষণা করা হয়েছে তা মিথ্যা। ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা প্রধান এবং প্রশাসন তছনছ করেছে। তিনি অনশনে বসার পর নাকি বিডিও বলেন প্রধানের নামে এফায়ার করবে। তা তিনি এতো দিন থেকে কেন করেননি। কত টাকা তিনি ভাগ খেয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন সারে তিন হাজারের জায়গায় পাঁচ হাজার পেয়ে শৌচালয় পেয়েছে। কিন্তু বিলাইমারি অঞ্চলে এবং মহানন্দাটোলা অঞ্চলে কোন শৌচালয় হয় নি বলে তিনি জানান।        

        অন্যদিকে বিডিও অর্জুন পাল জানান, মহানন্দাটোলার ক্ষেত্রে তার কাছে যা তথ্য আছে সেই হিসাবে এন.আর.জি.এস এর ২ হাজার ৬০০ টি এবং মাঠের মাধ্যমে ১৪০০ মোট শৌচালয় বানানোর কথা ছিল। তার মধ্যে মাঠের ১৪০০ শৌচালয় বানানো হয়েছে এবং এন.আর.জি.এস এর ১৮০০ টি শৌচালয় বানানো হয়ে গেছে এবং ৬৭১ টা শৌচালয় এখন বানাতে বাকি আছে তার কাজ চলছে। যা আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন যে বানানো হয়েছে বলছে কিন্তু বানানো হয়নি। তার জন্য বিডিও সাহেব তিনি নিজে এবং এসডিও ও জেলা দুই সিনিয়ার আধিকারিক তারা গিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত করেন পুরো ব্যাপারটার। তারপর তিনি জানান যা এনারা অভিযোগ করছেন তা একেবারে মিথ্যা। শৌচালয় বানানো হয়েছে। এবং অভিযুক্ত প্রধানের বিরুদ্ধে তিনি থানায় অভিযোগও জানিয়েছেন। এরপরেও আরও যা যা সমস্যা ও অভিযোগ আছে তা তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।